সুনামগঞ্জ , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, সীমান্তে উত্তেজনা মে মাসে গণপিটুনি ও সহিংসতায় নিহত ৩১, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী ও শিশু বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

  • আপলোড সময় : ২৬-০৫-২০২৬ ১০:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০৫-২০২৬ ১০:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সামাজিক শৃঙ্খলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা আজকের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘লাগামহীন’ আচরণ নিয়ে তার উদ্বেগ একেবারে অমূলক নয়। বাস্তবতা হলো, ফেসবুক-ইউটিউব-টিকটকের এই যুগে গুজব, বিদ্বেষ, অপসংস্কৃতি, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসত্য তথ্য সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র - সবখানেই পড়ছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এই সংকটের সমাধান কী? নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি ও সীমাবদ্ধতা আরোপই কি একমাত্র পথ? নাকি সচেতনতা, ডিজিটাল শিক্ষা ও দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ গড়ে তোলাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন অপব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি করেছে, তেমনি এটি সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের বড় প্ল্যাটফর্মও হয়ে উঠেছে। মূলধারার গণমাধ্যমে যাদের কণ্ঠ পৌঁছায় না, তারাও আজ নিজের অভিজ্ঞতা, মতামত ও প্রতিবাদ তুলে ধরতে পারছেন। ফলে ‘অপব্যবহার’ ঠেকানোর নামে যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ ইতিহাস বলে, অস্পষ্ট বা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ অনেক সময় ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের ভূমিকার কথাও বলেছেন। নিঃসন্দেহে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজকে ইতিবাচক পথে নিতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে রাষ্ট্রকেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যমের কাজই হলো ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা এবং জনগণের পক্ষে তথ্য তুলে ধরা। তাই নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে সংবাদ সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে তা গণতন্ত্রের জন্য সুখকর হবে না। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা বাস্তবসম্মত নয়। বরং প্রয়োজন দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্র - সব পক্ষকে মিলেই ডিজিটাল নৈতিকতা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সরকারেরও উচিত সমালোচনাকে সহনশীলভাবে গ্রহণ করা। কারণ গণতান্ত্রিক সমাজে সমালোচনা কোনো হুমকি নয়; বরং তা রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও জবাবদিহিমূলক করে তোলে। স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ব যেমন জরুরি, তেমনি দায়িত্বের নামে স্বাধীনতাকে সংকুচিত করাও বিপজ্জনক। তাই প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স